অবশেষে ঘুচল আট বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরির খরা কাটিয়ে দারুণ এক ইনিংস খেললেন সাব্বির রহমান। তার এই শতক এবং শেষ উইকেটের দৃঢ়তায় খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ল রাজশাহী বিভাগ।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২০২৬-২৭ মৌসুমের দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ দিনে মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই ড্রয়ের দেখা মিলেছে।
খুলনার বিপক্ষে আগের দিনের ৩ উইকেটে ৩০০ রান নিয়ে চতুর্থ ও শেষ দিনের খেলা শুরু করেছিল রাজশাহী। দলের পক্ষে দুর্দান্ত ব্যাট করে ২২১ বলে আটটি চার ও একটি ছক্কায় ১১৩ রান করেন সাব্বির। এটি তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ১৬৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেটিই ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার আগের শেষ সেঞ্চুরি, যা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও।
সাব্বিরের পাশাপাশি রাজশাহীর ইনিংসে মূল্যবান অবদান রাখেন প্রীতম কুমার (৪৪), সানজামুল ইসলাম (৩৯), আলী মোহাম্মদ (অপরাজিত ১১) ও শফিকুল ইসলাম (অপরাজিত ১৫)। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৫০০ রান তোলে রাজশাহী। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে তারা স্রেফ ১১৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর খুলনা তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ৪৮৪ রান।
তবে শেষ সেশনে হঠাৎ বিপাকে পড়েছিল রাজশাহী। খুলনার হয়ে আফিফ হোসেন একই ওভারে জোড়া শিকার ধরার পর শেখ পারভেজ জীবন ফিরিয়ে দেন সাব্বিরকে। ফলে মাত্র ছয় বলের মধ্যে ৩ উইকেট খুইয়ে রাজশাহীর স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ৪৭৪ রান। তখন ১০৯ রানের লিড নিয়ে এগিয়ে ছিল তারা, দিনের খেলা শেষ হতে বাকি ছিল আরও ২৬ ওভার। এরপর শেষ উইকেটে আলী ও শফিকুল দৃঢ়তা দেখিয়ে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। খুলনার বোলারদের হতাশ করে যথাক্রমে ৫০ ও ৫৮ বল খেলে ১৮ ওভার কাটিয়ে দেন তারা। ফলে ম্যাচের ফয়সালা হয় ড্রয়ে।
ম্যাচটিতে অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য সেরা খেলোয়াড় হন খুলনার শেখ মেহেদী হাসান। তিনি একমাত্র ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ১০৪ রান করার পাশাপাশি মোট ৮ উইকেট শিকার করেন।
সিলেটে অনুষ্ঠিত অন্য দুটি ম্যাচও অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ড্র করেছে স্বাগতিক সিলেট বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ। আর একাডেমি মাঠে ড্র হয়েছে রংপুর বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যকার ম্যাচ।
দ্বিতীয় রাউন্ডে একমাত্র ফল এসেছে কক্সবাজারে হওয়া ম্যাচটিতে। সেখানে বরিশাল বিভাগকে ইনিংস ও ১ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বরিশালের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৪৯ রান। শেষ দিনে বাকি ৬ উইকেটে আর ১৪৪ রান যোগ করতে পারে তারা। চট্টগ্রামের হয়ে ৭৭ রানে ৫ উইকেট নেন আশরাফুল হাসান রোহান। এটি টুর্নামেন্টে বরিশালের টানা দ্বিতীয় হার, চট্টগ্রামের প্রথম জয়।
