পুরোনো অপমানের প্রতিশোধ নিয়ে মেসির ইঙ্গিত, ‘এখনও ঘুরছ তুমি।’

এক মাস আগের অপমানটা বোধ হয় ভুলতে পারেননি লিওনেল মেসি। সেদিন তার শট আটকে দিয়ে মুখের সামনে উল্লাস করেছিলেন জুনিয়র আলোনসো। তাতে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এবার সেই আলোনসোকে নাচিয়ে গোল করেই যেন পুরোনো হিসাব মেটালেন মেসি। শুধু গোল করেই থামেননি, প্যারাগুইয়ান ডিফেন্ডারের মুখের সামনে গিয়ে উদ্‌যাপনও করেছেন। ইঙ্গিতে যেন বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘এখনও ঘুরছ তুমি!’

শনিবার মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আটলান্টা ইউনাইটেডকে তাদের মাঠে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক মেসি। তবে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে আলোনসোর সঙ্গে পুরোনো বিরোধের জবাব দেওয়ার ঘটনাটিও।

ম্যাচের ৬০ মিনিটে মায়ামির তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। লুইস সুয়ারেজের দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান তিনি। সামনে ছিলেন আটলান্টার ডিফেন্ডার আলোনসো। তাকে কাটাতে প্রথমে একদিকে, এরপর অন্যদিকে শরীর ঘুরিয়ে একের পর এক ধোঁকা দেন মেসি। তাতেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন প্যারাগুইয়ান ডিফেন্ডার। সুযোগ বুঝে বাঁ পায়ের নিচু কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।

এরপরই দেখা যায় অদ্ভুত এক উদ্‌যাপন। সতীর্থ রদ্রিগো দে পলকে সঙ্গে নিয়ে আলোনসোর মুখের সামনে গোলের আনন্দ প্রকাশ করেন মেসি। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, হাত দিয়ে ঘূর্ণির ইঙ্গিত দিচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের মতে, সেই ইঙ্গিতের অর্থ ছিল, ‘এখনও ঘুরছ তুমি।’

অবশ্য মেসির এমন উদ্‌যাপনের পেছনে রয়েছে পুরোনো ঘটনা। গত ৫ সেপ্টেম্বর মায়ামির মাঠে ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল দুই দলের ম্যাচ। সেই ম্যাচের শেষ দিকে মেসির একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দিয়েছিলেন আলোনসো। আর্জেন্টাইন তারকার শট আটকে দেওয়ার পর তার মুখের সামনে গিয়ে বুনো উল্লাস করেন প্যারাগুইয়ান ডিফেন্ডার।

বিষয়টি ভালোভাবে নেননি মেসি। ম্যাচের শেষ বাঁশির পর আলোনসোর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়েও জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয়েছিল দুই দলের ফুটবলারদের।

এক মাসের বেশি সময় পর আবারও মুখোমুখি হয়ে সেই ঘটনার জবাব দিলেন মেসি। তবে এবারের ঘটনা খুব বেশি উত্তেজনা ছড়ায়নি। মেসির উদ্‌যাপনের পর হেসেই প্রতিক্রিয়া জানান আলোনসো। শেষ পর্যন্ত দুজনের মধ্যে হাসিমুখেই শেষ হয় বিষয়টি।

এদিকে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন মেসি। ৪১ মিনিটে তার একটি ফ্রি-কিক দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন আটলান্টার গোলরক্ষক। তবে বিরতির ঠিক আগে এগিয়ে যায় মায়ামি। ৪৫ মিনিটে সুয়ারেজের ক্রসে হেডে গোল করেন জার্মান বেরতেরামে। সেই আক্রমণ তৈরিতে অবদান ছিল মেসিরও।

বিরতির পর ৫৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বেরতেরামের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি। চার মিনিট পর আলোনসোকে কাটিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। শেষ দিকে ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে আটলান্টার হয়ে ব্যবধান কমান ফাফা পিকো।

এই জয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচে জয় পেল মায়ামি। ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান আরও মজবুত করেছে তারা। আর জোড়া গোলে চলতি এমএলএস মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫। পাশাপাশি টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫টি করে অ্যাসিস্ট করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে এমএলএসে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন মেসি। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম তার কাছে বিশেষ স্মৃতির জায়গা। গত জুলাইয়ে এই মাঠেই ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

ইনস্টাগ্রামে মেসি লিখেছেন, ‘ইন্টার মায়ামির হয়ে আরও একটি জয়, এমন এক স্টেডিয়ামে, যেটি সাম্প্রতিক সময়ের সুন্দর কিছু স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।’
 

Related Articles

Latest Posts