‘বিজেপি মুসলমানদের জন্য হুমকি নয়, বিজেপি ভারতের জন্য হুমকি’—এমন তথ্য মিললো ভারতের স্বনামধন্য কৌতুকশিল্পী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কুনাল কামরার সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে।
কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি যখন নিজেকে ভারতের একমাত্র ‘দেশপ্রেমিক’ দল দাবি করে রাজ্যে রাজ্যে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতে ক্রমাগত ‘অপ্রতিরোধ্য’ হয়ে উঠছে, তখন এই দল সম্পর্কে একজন বিশ্লেষকের এমন মন্তব্য নতুন করে ভাবতে শেখায়।
‘বিজেপি ভারতের জন্য হুমকি কিনা?—এমন প্রশ্ন নিয়ে অনলাইনে খোঁজ চালাতেই সামনে এলো নানান সংবাদ প্রতিবেদন।
গত ১৪ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বামপন্থি ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরার বক্তব্য শোনা গেল। নেহার বক্তব্য দিয়েই ভিডিও প্রতিবেদনটির শিরোনাম করা হয়েছে—‘আমাদের সংবিধানের একটাই শত্রু, এই শত্রুর নাম বিজেপি।’
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়—নেহা বলছেন, ‘আমরা যখন জনগণ বনাম বিজেপির কথা বলি তখন আমরা একটি পক্ষ নিয়েই কথা বলছি। আমরা একটি অভিন্ন শত্রুর কথা বলছি। এই দেশের জনগণের এক শত্রু। ভারতীয় গণতন্ত্রের এক শত্রু। সংবিধানের এক শত্রু। আর সেই শত্রুর নাম হলো—বিজেপি।’
‘তারা গণতন্ত্রের সঙ্গে আপস করতে পারে, সংবিধানের মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করতে পারে; কারণ ভারতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। সংবিধানের আদর্শের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু, এই দেশের সাধারণ মানুষ যারা এই গণতন্ত্র ও সংবিধানের জন্য লড়াই করেছেন, জীবন দিয়েছেন; তারা চুরি করা গণরায় বা আপস করা গণতন্ত্র মেনে নিতে প্রস্তুত নন।’
‘ভোটাধিকারের ওপর আক্রমণ মানে ভারতের ওপর আক্রমণ ও গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ।’
এই তরুণ রাজনীতিক আরও বলেন, ‘তারা বলেছে যে আমরা দেশবিরোধী, বিশ্বাসঘাতক। এটা সত্যই প্রমাণিত যে, যারা এই দেশের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তারা হলো বিজেপি এবং যারা এই বিশ্বাসঘাতকতাকে সহায়তা করেছে।’
গত ১৩ অক্টোবর রাহুল গান্ধী এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন: ‘প্রতিবাদের লক্ষ্য একটি। তা হলো: গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার। দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সংবিধানকে ছিঁড়ে ও ছুড়ে ফেলা হয়েছে। আমরা সবাই মিলে লড়াই করছি প্রকৃত গণতান্ত্রিক নিয়ম পুনরুদ্ধারে।’
বিরোধীদের মতে—বিজেপি যে শুধু গণতন্ত্রের জন্য হুমকি নয়, তারা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত গণমাধ্যমের জন্যও ‘হুমকি’ এমন মন্তব্যও মিললো বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে।
ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে ‘শক্তিশালী’ বিজেপি তার রাজনৈতিক-আদর্শিকভাবে বিরোধীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে চায়—দেশটিতে এমন সংবাদ হামেশাই প্রচার করা হচ্ছে; বিশেষ করে, দিল্লির ‘যন্তর মন্তর’কে জনসমাবেশের জন্য বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে।
গত ১৪ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’ এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করে—‘আর বিনামূল্যে নয়, দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখাতেও গুণতে হবে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা!’ আরও জানানো হয়—দিল্লিতে আর বিনামূল্যে বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। আবার টাকা দিলেও সবসময় বিক্ষোভের অনুমতি মিলবে না।
প্রতিবেদন অনুসারে, ‘গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখানো প্রত্যেক নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার। কিন্তু, রাজধানী দিল্লিতে সংসদের কাছাকাছি সেই অধিকার প্রয়োগ করাটা আর বিনামূল্যে হবে না। এবার থেকে বিক্ষোভ দেখাতে গেলেও সম্ভবত বিক্ষোভকারীদের পকেট থেকে মোটা অংকের মূল্য খসাতে হবে। অন্তত বর্তমান পরিস্থিতি সে কথাই বলছে।’
এর আগের দিন অর্থাৎ, গত ১৩ অক্টোবর বিবিসির ‘দিল্লির বিক্ষোভে যেভাবে আটক ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা’ প্রতিবেদনে বিবিসি-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের করুণ অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। কীভাবে ভারতের রাজধানীতে এসআইএর-বিরোধী বিক্ষোভের ছবি তুলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। সাংবাদিকদের আটক ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে।
তবে বিজেপি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে একটু ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখা যাক।
‘বিকশিত’ ভারতের বাণী প্রচার করা বিজেপির জন্ম ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে ব্রিটানিকার তথ্য বলছে—বিজেপি হচ্ছে স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে একটি হিন্দুপন্থি দল। দলটি উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে ও ভারতের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়।
নিম্নবর্ণের বেশ কয়েকজনকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়ে বিজেপি নিম্নবর্ণের হিন্দুদেরকেও আকৃষ্ট করে যাচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট ভারতের লোকসভা (সংসদ) নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আসছে।
২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে এই বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তারা জোটের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করে।
বিজেপির জন্ম সম্পর্কে ব্রিটানিকা জানায়—বিজেপির শেকড় জড়িয়ে আছে ভারতীয় জন সংঘের (বিজেএস) সঙ্গে। ১৯৫১ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিজেএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর রাজনৈতিক শাখা হিসেবে। তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠতম উপাচার্য ও অপর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু মহাসভার সভাপতি।
আরও জানা যায়—বিজেপির লক্ষ্য হিন্দু সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে ভারতকে নতুন করে গড়ে তোলা। দলটি ভারতকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
১৯৬৭ সালে ভারতীয় জন সংঘ (বিজেএস) হিন্দিভাষী উত্তর ভারতে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। এর ১০ বছর পর অটল বিহারি বাজপেয়ির নেতৃত্বে দলটি অন্য ৩ রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘জনতা পার্টি’ নামে জোট গড়ে তোলে।
১৯৭৭ সালে জনতা পার্টি জোট ভারতে সরকার গঠন করে।
ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি অ-কংগ্রেস সরকার গঠিত হলেও অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে ২ বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৯ সালে সরকারের পতন হয়।
এরপর ১৯৮০ সালে ‘জনতা’ জোটের সমমনা দলগুলো নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি গড়ে তোলা হয়। সেসময় নির্বাচিত বিজেএস নেতাদের আরএসএস থেকে দূরে থাকার কথা বলা হয়। কেননা, ১৯৪৮ সালে সাবেক আরআসএস কর্মী নথুরাম গডসের গুলিতে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধি নিহত হন।
ব্রিটানিকার তথ্য আরও বলছে—ভারতীয় জন সংঘের নেতাকর্মীরা নিজেদের বিজেপি হিসেবে পুনর্গঠিত করে। এরপর নতুন দলটির নেতৃত্ব নেন অটল বিহারি বাজপেয়ি, লাল কৃষ্ণ আদভানি ও মুরালি মনোহর জোশি।
বিজেপি হিন্দুত্বকে দলীয় মতবাদ হিসেবে প্রচার করে চলেছে। তারা ভারতের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ-নীতির তীব্র সমালোচক। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির তৈরির দাবি তুলে বিজেপি ভোটারদের আকৃষ্ট করে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজেপি দেশটির লোকসভা নির্বাচনে ১১৭টি আসন পায় এবং ৪ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়।
এর পরের বছর বিজেপির সঙ্গে জড়িত সংগঠনগুলো ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেললে জনমনে দলটি সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ এই সাম্প্রদায়িক দলটিকে নিয়ে হতাশ ও সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতীয় হিন্দুদের আকৃষ্ট করতে বিজেপির নেতাকর্মীরা হিন্দু দেবতা রামের প্রতিমা নিয়ে রাজনৈতিক সমাবেশ করতে শুরু করে। তারা রামকে হিন্দু সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি ভারতের একক বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে লোকসভায় আসে এবং সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পায়।
কিন্তু, লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিজেপি-সরকার বেশিদিন টিকতে পারেনি। ১৯৯৮ সালে বিজেপি শরিকদের নিয়ে আবার সরকার গঠন করলে অটল বিহারি বাজপেয়ি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।
বাজপেয়ি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিজেপি-সরকার ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়ে। বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৩ মাসের মাথায় এক শরিক দল সমর্থন তুলে নিলে বাজপেয়ি-সরকারের পতন হয়।
১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে অটল বিহারি বাজপেয়ি আবার প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেন। ক্ষমতায় এসে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজেন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতকে সুপরিচিত করে তোলেন।
২০০৪ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের (ইউপিএ) কাছে বিজেপি হেরে যায়।
এ কথা সবাই জানেন যে, গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সর্বভারতীয় দল হিসেবে বিকশিত হতে থাকে।
ব্রিটানিকায় বলা হয়েছে—২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসতে শুরু করে বিজেপির সৌভাগ্যের দরজা ততই খুলতে থাকে। নরেন্দ্র মোদি বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে থাকেন।
মোদি ভারতবাসীকে ‘নতুন ভারত’ গড়ার আহ্বান জানান। আশ্বাস দেন—বিজেপি নির্বাচিত হলে গুজরাটের মতো সারা ভারতে সার্বিক উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি, তিনি মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দিয়ে কংগ্রেসকে ‘মুসলিম তোষণকারী’ দল হিসেবে তিরস্কার করেন।
তার বলিষ্ঠ প্রচারণা ভারতবাসীকে ‘দু হাত খুলে’ বিজেপির প্রার্থীদের ভোট দিতে প্ররোচিত করে।
লোকসভায় বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নির্বাচিত হলে ২০১৪ সালের ২৬ মে নরেন্দ্র মোদি বেশ জমকালোভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শরিক দলের নেতাদেরকেও মন্ত্রিসভায় নিয়ে তিনি শক্তিশালী সরকার গঠন করেন।
ব্রিটানিকার তথ্য বলছে—বিজেপি হিন্দুত্ববাদী ভাবধারা প্রসারে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়। তবে দেশটির এক হাজার রুপির নোট বাতিল ও জনগণের ওপর বাড়তি কর চাপিয়ে মোদি-সরকার বেশ সমালোচনায় পড়ে।
এরপর, বিজেপি দেশব্যাপী হিন্দুত্ববাদ ছড়াতে ‘গরু-হত্যা’র ওপর নিষেধাজ্ঞায় জোর দেয়।
ভারতে বেকারত্ব কমাতে না পেরে, উল্টো জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিয়ে বিজেপি জনসমাজে ক্রমশ জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে।
তারপরও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভূমিধস বিজয় পায়।
সমালোচকদের অনেকে বলছেন—সে বছর নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি-বিজেপি কাশ্মীর সংঘাতকে তুলে ধরে ভারতবাসীর আবেগকে উসকে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, দলটি ভারতে আরও বেশি করে ধর্মীয় মেরুকরণের পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকে।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে বিজেপি ভারতীয় সংবিধান থেকে কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ তুলে দেয়। ভারতজুড়ে ‘হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদ’ জাগিয়ে তোলে। কিন্তু, ২০২০ করোনা মহামারি ভারতে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে এবং এর ফলে প্রচুর সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর হলে বিজেপি আবারও জননিন্দায় পড়ে।
তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বিজেপি-জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে নরেন্দ্র মোদি তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং সারা ভারতে বিজেপির প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হন।
তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসা বিজেপি কেন বিরোধীদের দৃষ্টিতে ‘গণশত্রু’ তা জানতে অনলাইনে আরও খোঁজ করার সময় হঠাৎ চোখ আটকে গেল, গুরুচণ্ডালির ‘তুমি না থাকলে ভোটার লিস্টি সৃষ্টি হতো না’ ব্যঙ্গরসাত্মক গানের ভিডিওটিতে। মূলত অঞ্জন দত্তের ‘তুমি না থাকলে…’ গানের ওপর ভিত্তি করে এই প্যারোডি তৈরি করা হয়েছে।
মনে হলো বিজেপির ‘গণশত্রু’ হওয়ার একটি সম্ভাব্য সূত্র যেন হাতে পাওয়া গেল।
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের এক বছরের মাথায় দলটি ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।
গত ১৩ অক্টোবর বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের জুনে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতের নির্বাচন কমিশন বিশেষভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়।
আরও জানা যায়—নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সংস্থা হলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগের জন্য বিজেপি সরকার যে প্যানেল গঠন করেছে, সেখানে ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। যদিও সরকার তা অস্বীকার করে।
ভোটার তালিকা তৈরিতে বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয়ভাবে সফটওয়ার ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ‘সীমিত’ করা নিয়ে বিরোধীরা আবারও সরব হয়।
সমালোচকরা বলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটার তালিকা সঠিকভাবে সংশোধন করতে পারছিলেন না। এর ফলে অন্তত ১৩ কোটি মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন।
দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকায় ‘জালিয়াতির’ নানান প্রমাণ জনসম্মুখ উপস্থাপন করলেও দেশটির আদালত, নির্বাচন কমিশন এমনকি, বিজেপি সরকার বিষয়টিকে বিরোধীদের ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে তা এড়িয়ে চলতে শুরু করে।
এমন বাস্তবতায় ‘বিতর্কিত’ ভোটার তালিকা দিয়ে ভোটগ্রহণের পর বিহারে বিজেপি জোটকে আবারও ক্ষমতায় আসতে দেখা যায়।
গত এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘বিশেষ সংশোধনের’ পর ভোটার তালিকা থেকে অন্তত ৩৬ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠে। দেশটির নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে আবারও প্রশ্ন জাগে।
সেই নির্বাচনে বিজেপি প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে।
কিন্তু, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা তৈরিতে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘সংবিধানবিরোধী’ কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরে।
এরপর ভারতের বিরোধীদের পাশাপাশি দেশটির আপামর জনগণ বিজেপিকে ‘গণশত্রু’ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তুমুল আন্দোলন দেখছে বিশ্ববাসী।
প্রতিদিনই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ অন্যান্য শহরে জ্ঞানেশবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে। তা ক্রমশ জোরালো হয়ে মোদি-শাহবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে। ভারতের মাটিতে আওয়াজ উঠছে—‘বিজেপি ভারত ছাড়।’
বলা বাহুল্য, এমন আওয়াজ ভারতের ইতিহাসের পাঠকদের অনেককে ‘ব্রিটিশ ভারত ছাড়’ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন—প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার গণতন্ত্রের ভিত্তি নির্বাচনকে কলঙ্কিত করেছেন। নির্বাচনের ভিত্তি সঠিক ভোটার তালিকা তৈরিতে শুধু ব্যর্থই হননি, তিনি ভারতের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। স্বাধীন সংস্থা হিসেবে বিবেচিত নির্বাচন কমিশনকে কলুষিত করেছেন। আর তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে বিজেপি ভারতের মানুষের কাছে ‘গণশত্রু’তে পরিণত হয়েছে।
‘মিথ্যার দেশে সত্য বলাটাই রাষ্ট্রদ্রোহিতা’—জর্জ অরওয়েলের এমন আপ্তবাণী যেন আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি-শাসিত ভারতবর্ষে। বিজেপি সরকারের সমৃদ্ধ ভারতের স্বপ্ন যেন ছুঁতে পারছে না দেশটির তরুণ প্রজন্মকে।
অন্যদিকে, ‘চুরি করেছে চৌকিদার’—নানান বয়সীদের এমন বজ্রনিনাদ যেন পৌঁছাচ্ছে না ‘লোক কল্যাণ মার্গে’—অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লির বাসভবনে।
জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনরত এআইএসএ-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে পুলিশ বারবার আটক করে।
একবার আটকের পর এই নেতা পুলিশের গাড়ির ভেতরের অবস্থা তুলে ধরে লাইভ স্ট্রিমে বলেন—‘যে বাসে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে সেটা দেখতে এরকম—জানালায় জালি লাগানো হয়েছে। চারটি ছোট ছোট সেল বানানো হয়েছে। যেখানে এরকম দরজায় তালা।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা নেই। কাঁচ লাগানো। জেলের মতো এরা বানিয়েছে। এত বাহিনী, এত পুলিশ, এত হিংসা, মা-বোন, জাতি-ধর্ম তুলে গালি কেন? কারণ, আপনারা (বিজেপি) একটা চোর জ্ঞানেশকে বাঁচাতে চান।’
গত ১৩ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ ‘প্রতিবাদীদের দমনপীড়ন নিয়ে প্রশ্নের মুখে দিল্লি পুলিশ’ শিরোনামের ৫ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের এক ভিডিও প্রতিবেদনে পুলিশি নির্যাতনের নানা দৃশ্য তুলে ধরে।
এতে দেখা যায়, এক আন্দোলনকারী সাংবাদিকদের বলছেন—‘ওরা মেরেছে। কেউ বাঁচাতে আসেনি।’
এ ছাড়াও, এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়—‘আমি কী করেছি? আমি সাংবাদিক।’
টেনেহিঁচড়ে ও চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাওয়া নারী-পুরুষদের বলতে শোনা গেছে—‘এটা কী করছেন আপনি? আমি হাঁটতে পারি। আমি হেঁটে যেতে পারবো। আমাকে ছাড়ুন।’
আন্দোলনকারীদের একজন বললেন, ‘যে-ই প্রশ্ন করছে তাকেই গাড়িতে তোলা হচ্ছে।’
আন্দোলনকারীরা সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম পরা কিন্তু ব্যাচহীন পুলিশ সদস্যদের কটাক্ষ করে ‘আরএসএস-এর লোক’, ‘বিজেপির দালাল’ ইত্যাদি কটু কথাও বলছেন।
কেউ কেউ বলছেন, বিজেপি নিজ দেশের মানুষদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে।
চলতি অক্টোবরের শুরু থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও সঠিক ভোটার তালিকার দাবিতে আন্দোলনরত আমজনতার ওপর পুলিশ এমন দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে যে, গত ১৪ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সাময়িকী ফরেন পলিসি-র এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—‘মোদিস ক্র্যাকডাউন ইজ অ্যা স্ট্র্যাটেজিক এরর’। অর্থাৎ, মোদির দমনপীড়ন একটি কৌশলগত ভুল।
এতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হাতে আন্দোলন দমন করায় ভারতের জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা নিয়ে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
মূলত গত ১০ অক্টোবর অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক সমাবেশস্থল যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভের ডাক দিলে মোদি-শাহ তথা বিজেপি সরকার বেশ কয়েক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য দিয়ে পুরো শহর ঘিরে ফেলে।
শুধু তাই নয়, দিল্লিগামী দূরপাল্লার ট্রেনগুলোও বন্ধ করে দেয়। নগরীর ভেতরে মেট্রো স্টেশন ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখে সরকার।
বিরোধীদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লিকে অবরুদ্ধ না করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে ক্ষমতাসীনরা।
সব বাধা পেরিয়ে নানান বয়সী মানুষ যখন দিল্লির রাস্তায় সমবেত হওয়ার চেষ্টা করেন, তখনই শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও বিক্ষোভকারীদের গণহারে আটক।
সিজেপির শীর্ষ নেতাদের উড়োজাহাজের ভেতরে নারী পুলিশ দিয়ে আটক করিয়ে এক নতুন দৃষ্টান্তের জন্ম দেয় শাসকদল।
বিজেপি সরকার যখন গণআন্দোলনের সব পথ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য একের পর এক ব্যবস্থা নিচ্ছে তখন দেশটির সংবাদমাধ্যমে নতুন বার্তা শোনা গেল—‘বিপ্লব ছাড়া পথ নেই!’
গত ১২ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—‘বিপ্লব ছাড়া পথ নেই, রক্তপাতও হবে’! এতে আরও জানানো হয়—এমন কথায় ‘ক্ষমতা বদলের ছক’ দেখছে বিজেপি।
প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে ভারতের জাতীয় রাজনীতি যখন উত্তপ্ত তখন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণের একটি কথিত অডিও রেকর্ডে ‘বিপ্লবের’ কথা বলতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এতে আরও জানানো হয়, অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কেননা, অডিওটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার একমাত্র পথ হিসেবে ‘বিপ্লব’কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমটি যে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের অডিও রেকর্ডটির সত্যতা ও সম্পূর্ণ কথোপকথনের প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি, সে কথাও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে—‘বিজেপির অভিযোগ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে অস্থির করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই মন্তব্য। বিরোধীদের আন্দোলনের আড়ালে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের।’
সংবাদমাধ্যম ‘গেরুয়া শিবির’ বলতে মূলত আরএসএস-বিজেপি ও অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলকে বোঝায়।
আর যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতাসীনরা সবসময় বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ-সমাবেশকে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা’ বলেই মন্তব্য করে থাকে, তা কারও অজানা নয়।
ভারতীয় সমাজ-রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস এক বহুল চর্চিত নাম। ১৯২৫ সালে উপনিবেশিক ব্রিটিশ ভারতে প্রতিষ্ঠিত এই চরম হিন্দু জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের দালালি করার অভিযোগ আছে দীর্ঘদিন ধরে।
বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা আরএসএস শত বছর ধরে করে আসছে।
১৯৪৮ সালে স্বাধীন ভারতে আরএসএস-এর এক সাবেক কর্মী নথুরাম গডসে দেশটির জাতির জনক মহাত্মা গান্ধিকে হত্যা করলে সেই বছর সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন কংগ্রেস সরকার।
ব্রিটানিকার তথ্য বলছে—(গান্ধি হত্যার পরের বছর) ভারতের সংবিধান ও জাতীয় পতাকা মেনে নেওয়ার শর্তে আরএসএস-এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
আরও বলা হয়—১৯৫১ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আরএসএস-এর রাজনৈতিক শাখা হিসেবে ভারতীয় জন সংঘ বা বিজেএস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮০ সালে এই বিজেএস নতুন নাম তথা ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
আরএসএস-এর সঙ্গে বিজেপির যোগসূত্র থাকায় ভারতের এক বিশাল অংশের মানুষ বিজেপিকে ‘গণশত্রু’ হিসেবে গণ্য করেন। বিশেষ করে, যারা ভারত রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ নীতিকে পছন্দ করেন তারা।
সমালোচকদের ভাষ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দল হিসেবে বিজেপি ভারতে হিন্দুত্বের প্রচার-প্রসার ও বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
বিরোধীদের অভিযোগ: বিজেপির কারণে অশীতিপর হওয়ার আগেই পোক্ত হওয়ার পরিবর্তে গতি হারিয়ে ফেলেছে ভারতের গণতন্ত্র। এবার ভোটার তালিকায় ‘জালিয়াতি’ করে বিজেপি বুঝিয়ে দিলো তারা সংবিধানের ‘শত্রু’, গণতন্ত্রের ‘শত্রু’ এবং ভারতের ‘গণশত্রু’।
