হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পেলেন গ্র্যান্ডমাস্টার দাবাড়ু

হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন সর্বকালের সেরা নারী দাবাড়ু হিসেবে স্বীকৃত জুডিত পোলগার।

আজ সোমবার এই বার্তা সংস্থা রয়টার্স তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার জানিয়েছেন, জুডিতকে তিনি দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবেন।

হাঙ্গেরিতে প্রেসিডেন্ট পদটি ‘আনুষ্ঠানিক’ হিসেবে বিবেচিত।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাজিয়ার বলেন, ৪৯ বছর বয়সী পোলগার জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হতে পারেন।

তিনি আরও জানান, পোলগারের সঙ্গে দেখা করে তিনি জানতে চাইবেন, এই মনোনয়ন গ্রহণে তিনি রাজি আছেন কী না।

হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্ট টমাস সুলিয়ক গত শনিবার পদত্যাগ করতে সম্মত হন। সেদিনই দেশের সংবিধানের ১৭তম সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন তিনি। 

ওই সংশোধনীর মাধ্যমে গত রোববার মধ্যরাত থেকে তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়।

গত এপ্রিলে দেশটির সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন পিটার মাজিয়ার। এর ফলে ভিক্টর অরবানের দীর্ঘ ১৬ বছরের একচেটিয়া শাসনের অবসান ঘটে।

মাজিয়ারের ক্ষমতাসীন তিসজা পার্টির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় একতরফাভাবে এ সাংবিধানিক সংশোধনীটি পার্লামেন্টে পাস করায়।

একই কায়দায় সংসদ নতুন একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে। পরিকল্পিত সংবিধান বাস্তবায়নের আগে পর্যন্ত অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

জুডিত পোলগার, তার দুই বোন জুজা (সুসান) ও জোফিয়া (সোফিয়া) এবং ইলদিকো মাদল ১৯৮৮ সালের দাবা অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন হওয়া হাঙ্গেরির নারী দলের সদস্য ছিলেন।

তাদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে নারীদের দাবায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটে।

জুডিত পুরুষদের বিপক্ষেও খেলেছেন এবং নিজেকে অন্যতম সেরা দাবাড়ু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান নারী দাবাড়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনিই একমাত্র নারী, যিনি ২৭০০ রেটিংয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন।

অনেকেই এই রেটিংকে ‘সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার’-এর মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে নেটফ্লিক্সে পোলগারকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘কুইন অব চেস’ মুক্তি পায়।

ফেসবুক পোস্টে মাজিয়ার লেখেন, ‘আমি তার সঙ্গে দেখা করব এবং জিজ্ঞাসা করব, নতুন সংবিধান পাস না হওয়া পর্যন্ত নতুন ভূমিকায় দেশের সেবা করতে তিনি প্রস্তুত কী না।’

তিনি আরও লেখেন, ‘জুডিত পোলগারের নাম কয়েক দশক ধরে প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের সমার্থক।’

রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি জুডিত পোলগার।

হাঙ্গেরিতে প্রায় ৯৬ লাখ মানুষের বসবাস। খ্রিস্টান অধ্যুষিত হাঙ্গেরিতে ইহুদি ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ১ শতাংশেরও কম। তাদের বেশিরভাগই বসবাস করেন রাজধানী বুদাপেস্টে। এসব কারণে জুডিট পোলগারের ধর্ম-পরিচয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। 

দেশটিতে দীর্ঘ সময় ভিক্টর অরবানের উগ্র ডানপন্থি সরকার ক্ষমতায় ছিল। সাবেক সরকারের প্রভাব থেকে দেশকে বের করে এনে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার একজন জনপ্রিয় সংখ্যালঘু ব্যক্তিত্বকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য বেছে নিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মত দেন। 
 

Related Articles

Latest Posts