চীনের হামলা ঠেকাতে তাইওয়ানের রোবট কুকুর

দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোতে টহল দেওয়া এবং সম্ভাব্য চীনা হামলা প্রতিরোধে সশস্ত্র রোবট কুকুর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে তাইওয়ান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার পা-ওয়ালা এই সামরিক রোবটগুলো গোয়েন্দা নজরদারি, পর্যবেক্ষণ এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত স্প্র্যাটলি ও প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জের দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারির জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

তাইপের শীর্ষ অস্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সামরিক মালিকানাধীন ন্যাশনাল চুং-শান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এনসিএসআইএসটি) সম্প্রতি সম্ভাব্য ব্যবহারের জন্য বিবেচনাধীন তিন ধরনের চারপেয়ে রোবটের প্রদর্শনী করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোবটগুলো তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ঘোস্ট রোবোটিক্স। তবে এনসিএসআইএসটি সেগুলোর সঙ্গে নিজস্ব প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রোবট কুকুরের পিঠে স্থাপন করা আগ্নেয়াস্ত্র।

এনসিএসআইএসটির ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট গবেষণা বিভাগের উপপ্রধান জেন কুও-কুয়াং টেলিগ্রাফকে বলেন, তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী এ ধরনের রোবটের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এখনো কোনো অর্ডার দেয়নি।

তিনি বলেন, বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরে তাইওয়ানের দাবি করা দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে এসব রোবট ব্যবহার করা হতে পারে।

দ্বীপগুলোর চীনা নাম ব্যবহার করে তিনি বলেন, আসলে মেরিন বাহিনীর ধারণা, সৈকত ও উপকূলীয় এলাকায়, এমনকি নানশা ও দংশায় কোস্টগার্ডের টহল ও পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও এর জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

যদিও তাইওয়ান পুরো প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জ এবং স্প্র্যাটলি দ্বীপগুচ্ছের ইতু আবা দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে বেইজিংয়ের দাবি, এসব দ্বীপসহ দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো অঞ্চলই তাদের ভূখণ্ডের অংশ।

তাইওয়ানের মূল দ্বীপ থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দূরে অবস্থানের কারণে প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জকে সম্ভাব্য চীনা হামলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি বলে মনে করা হয়।

তাইওয়ানের কোস্টগার্ড প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জ ও ইতু আবার আশপাশে উপস্থিতি বজায় রাখে। তবে সেখানে স্থায়ী বসতি নেই। ফলে এসব এলাকায় রোবট কুকুর কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ানকে ঘিরে তথাকথিত ‘গ্রে-জোন’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চীনা কোস্টগার্ড নিয়মিত প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে টহল দেয় এবং প্রায়ই তাইওয়ানের কোস্টগার্ডের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে জড়ায়।

গত মে মাসে প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জের কাছে সীমিত জলসীমায় উভয় পক্ষের মধ্যে টানা ৩৩ ঘণ্টা উত্তেজনাপূর্ণ রেডিও বার্তা বিনিময় হয়।

স্প্র্যাটলি অঞ্চলে চীন সাধারণত ইতু আবাকে এড়িয়ে চলে। তবে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন ভূখণ্ড নিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে।

মে মাসের শুরুতে দ্য টেলিগ্রাফের একটি দল পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে এক সপ্তাহ অবস্থান করে। পুরো সময়জুড়ে অন্তত একটি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ তাদের অনুসরণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে তাইওয়ান ও চীন উভয়ই ক্রমবর্ধমানভাবে রোবোটিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।

রোবোটিক প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম অগ্রগামী দেশ চীন ইতোমধ্যে সামরিক ব্যবহারের জন্য রোবট কুকুরের একাধিক মডেল তৈরি করেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ডিফেন্স শোতে একটি চীনা প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান পিঠে পিএফ-০৭০ অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী একটি চারপেয়ে রোবট প্রদর্শন করে।

এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে। তবে বেইংজিং এটির বিরোধিতা করছে।

তিনি আরও বলেন, তাইওয়ান বিষয়ে আমাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

Related Articles

Latest Posts