বার্সার মুখোমুখি হওয়ার আগে রিয়ালের গোল উৎসব

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ছুটছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে, আর জোসে মরিনহোর দল এখনও খুঁজছে নিজেদের সেরা ছন্দ। তাই এল ক্লাসিকোর আগে জয়ের বিকল্প ছিল না রিয়াল মাদ্রিদের। এমন সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই সেভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল রিয়াল। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকার অভাব বুঝতেই দিলেন না কিলিয়ান এমবাপে। অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোলের পর পানেনকা পেনাল্টিতেও জাল খুঁজে নিলেন ফরাসি তারকা। তার জোড়া গোলে সেভিয়াকে উড়িয়ে এল ক্লাসিকোর আগে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল মাদ্রিদের ক্লাবটি।

রোববার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এমবাপের জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি করে গোল করেছেন আরদা গুলার ও ইয়ান দিয়োমান্দে। সেভিয়ার একমাত্র গোলটি করেন মানু বুয়েনো।

এই জয়ে নয় ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। আর শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান ছয় পয়েন্ট। শনিবার রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে হারিয়ে টানা নবম জয় তুলে নিয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

আগামী রোববার ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার আগে এমন বড় জয় নিঃসন্দেহে স্বস্তি দেবে মরিনহোকে।

চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ভিনিসিয়ুসকে ছাড়াই সেভিয়ার বিপক্ষে একাদশ সাজিয়েছিলেন রিয়াল কোচ। তার জায়গায় বাঁ প্রান্তে খেলান দিয়োমান্দেকে। মাঝমাঠে জুড বেলিংহামের সঙ্গে ছিলেন আরদা গুলার। আক্রমণভাগে এমবাপের পাশাপাশি সুযোগ পান ব্রাজিলিয়ান তরুণ এনদ্রিক।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য সেভিয়ার রক্ষণ ভাঙতে কিছুটা বেগ পেতে হয় রিয়ালকে। তবে ৩০ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন গুলার। বেলিংহামের শুরু করা আক্রমণে বাঁ প্রান্ত থেকে বল পান দিয়োমান্দে। তার পাসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তুর্কি মিডফিল্ডার। সেভিয়া গোলরক্ষক ওদিসেয়াস ভ্লাচোদিমোসের চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

এরপর শুরু হয় এমবাপের জাদু। প্রথমে মাঝমাঠ থেকে দ্রুতগতিতে আক্রমণে উঠে প্রায় একাই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। তবে তার নিচু শট ঠেকিয়ে দেন সেভিয়া গোলরক্ষক। কিন্তু ৩৭ মিনিটে আর তাকে আটকানো যায়নি। ডি-বক্সের সামনে বেলিংহামের ব্যাকহিল পাস থেকে বল পেয়ে চোখধাঁধানো এক ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান এমবাপে। এরপর গোলরক্ষককেও পাশ কাটিয়ে অনায়াসে বল জালে পাঠান তিনি।

বিরতির পরও রিয়ালের আক্রমণের ধার কমেনি। যদিও ৬০ মিনিটে সেভিয়ার একটি প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন ফেদেরিকো ভালভার্দে।

এর তিন মিনিট পরই ব্যবধান ৩-০ করেন এমবাপে। ডি-বক্সে আন্দ্রেস কাস্ত্রিনের চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। নিজেই স্পটকিকে দাঁড়িয়ে পানেনকা শটে বল জালে পাঠান ফরাসি তারকা। লা লিগার চলতি মৌসুমে এটি তার নবম গোল।

৮০ মিনিটে মানু বুয়েনোর গোলে ব্যবধান কমায় সেভিয়া। তবে দুই মিনিট পরই তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন দিয়োমান্দে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে রিয়ালের ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন আইভরিকোস্টের এই উইঙ্গার।

বড় জয় পেলেও ম্যাচে বিতর্কের অভাব ছিল না। প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে সেভিয়ার পেকেকে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে গুলারের বিরুদ্ধে। তবে তাকে লাল কার্ড দেখাননি রেফারি। বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ শেষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসা।

গার্সিয়া বলেন, ‘১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের খেলায় রিয়াল অবশ্যই জয়ের যোগ্য। কিন্তু আমাদের অন্য একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ২৫ মিনিট থেকেই আমাদের ১০ জনের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল।’

Related Articles

Latest Posts