টোকিওতে মিয়ানমার-যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোপন’ বৈঠক, যা নিয়ে আলোচনা

পাঁচ বছর মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে এড়িয়ে চললেও সম্প্রতি দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে, টোকিওতে ওয়াশিংটন-নেপিডোর প্রতিনিধিরা এক ‘গোপন’ বৈঠক করেছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগতদের বরাতে আজ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত সপ্তাহে টোকিওতে মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকারের সঙ্গে আবারও বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক মাসের ব্যবধানে দুইপক্ষের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৈঠক।

গত মাসে নেপিডোতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণাবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স ও মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংয়ের বৈঠক হয়।

ওই বৈঠকই দুইপক্ষের মধ্যে আরও আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। অল্প সময়ের ব্যবধানে টোকিওতে আবার আলোচনায় বসার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

দ্বিতীয় বৈঠকেও মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। তবে মিয়ানমারের পক্ষে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা জানা যায়নি।

প্রথম বৈঠকে এক মার্কিন ব্যবসায়ীর মুক্তি নিশ্চিত করা এবং মিয়ানমারের প্রতারণাকেন্দ্রগুলো বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। দ্বিতীয় বৈঠকে ভবিষ্যতে মিয়ানমার থেকে বিরল খনিজ আমদানিসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে আভাস দিয়েছেন সূত্রগুলো।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রতারকচক্রের কার্যক্রম ও প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধে মিয়ানমারের সহযোগিতা নিশ্চিত করা। এসব প্রতারকরা মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে।

গবেষকদের মতে, প্রতারণার অনেক কার্যক্রম পরিচালিত হয় সেনা-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায়। এর থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ সামরিক বাহিনীর কাছেও যায়। ফলে প্রতারণা বন্ধে মিয়ানমারের নেতারা সত্যিই আন্তরিক কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে মিয়ানমার সরকার বলছে, প্রতারণাকেন্দ্রগুলো বন্ধে যৌথ উদ্যোগে তারা থাকছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে মিয়ানমারে বিরল খনিজের বড় মজুত নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব খনিজ বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে বায়ুবিদ্যুতের টারবাইনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে মিয়ানমার থেকে এসব খনিজ আমদানিতে বড় বাধা রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন তারা।

এসব খনিজের মজুতের বেশির ভাগই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। অন্যদিকে, মিয়ানমারের বিরল খনিজের প্রধান ক্রেতা চীনও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এগুলো রপ্তানিতে আপত্তি জানাতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোই ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক পরিচালক হান্টার মার্সটন বলেন, জাপানে সর্বশেষ আলোচনায় এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে মিয়ানমারের সঙ্গে শুধু ‘লেনদেনের’ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।

মার্সটনের দাবি, মিয়ানমারের বিরল খনিজ ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ‘কৌশলগত সম্পদ’। এই সম্পদ কুক্ষিগত করাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে ওয়াশিংটনের আগ্রহ।

বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে জাপানের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে রয়টার্সকে জানায়, দুইপক্ষের সঙ্গেই তারা ‘প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ’ করেছে।

তবে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় টোকিও।
 

Related Articles

Latest Posts