বড় আশা নিয়ে পুরোনো কোচকে ফিরিয়ে এনেছিলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ভেবেছিলেন, হোসে মরিনহোর হাত ধরে আবারও সাফল্যের পথে ফিরবে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু তিন মাস পেরোতেই সেই প্রত্যাশায় ভাটা পড়তে শুরু করেছে। মাঠের পারফরম্যান্সে নেই কাঙ্ক্ষিত উন্নতি, ফলও আসছে না প্রত্যাশামতো।
এরই মধ্যে পর্তুগিজ কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। এমনকি মরিনহোকে সরাতে হলে তার জায়গায় কাকে আনা হবে, সেই নামও নাকি ঠিক করে রেখেছেন রিয়াল সভাপতি। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় এসেছেন ফ্রান্সের সাবেক কোচ দিদিয়ের দেশম।
গত জুনে তিন বছরের চুক্তিতে মরিনহোকে দ্বিতীয়বারের মতো রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব দেন পেরেজ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে থাকার কথা তার। কিন্তু রিয়ালের মতো ক্লাবে চুক্তির মেয়াদ যে চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না, তার উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়েই দেখা গেছে।
কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে চলে যাওয়ার পর রিয়ালের ডাগআউটে স্থিতিশীলতা ফেরেনি। একে একে দায়িত্ব নিয়েও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি জাবি আলোনসো ও আলভারো আরবেলোয়া। শেষ পর্যন্ত পুরোনো কোচ মরিনহোর ওপরই আস্থা রাখেন পেরেজ। বেনফিকা থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে পর্তুগিজ ক্লাবটির চুক্তি বাতিলের অর্থও পরিশোধ করতে হয় রিয়ালকে।
কিন্তু নতুন মেয়াদে শুরুটা ভালো হয়নি মরিনহোর। লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে রিয়াল। দলের খেলার ধরন নিয়েও সন্তুষ্ট নন ক্লাবের অনেক কর্মকর্তা। ফলে মরিনহোর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের খবর, মরিনহো প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তার বিকল্প হিসেবে দেশমকে বিবেচনা করছেন পেরেজ। স্প্যানিশ সাংবাদিক সের্হিও ভালেন্তিন জানিয়েছেন, রিয়াল সভাপতি নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম জানিয়ে দিয়েছেন। সেই ব্যক্তি দেশম।
মরিনহোকে দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়ালে ফিরিয়ে আনার আগ্রহের খবরও প্রথম প্রকাশ করেছিলেন এই সাংবাদিক। তার দাবি, সামনের ম্যাচগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন পেরেজ।
বিশেষ করে আগামী ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোকে মরিনহোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না এলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
অবশ্য দেশমের নাম রিয়ালের সঙ্গে এবারই প্রথম জড়াল না। গত জুনে ক্লাবটির সভাপতি নির্বাচনের সময়ও সম্ভাব্য কোচদের তালিকায় ছিলেন তিনি। তবে তখন ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকায় তাঁকে আনা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত মরিনহোকেই বেছে নেন পেরেজ।
এখন অবশ্য দেশমের পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স চতুর্থ হওয়ার পর জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন তিনি। তার জায়গায় ফরাসিদের নতুন কোচ হয়েছেন রিয়ালের সাবেক কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।
২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর ফ্রান্সের দায়িত্বে ছিলেন দেশম। তার অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফরাসিরা। ২০২২ সালে দলকে নিয়ে যান ফাইনালে। জাতীয় দলের কোচ হওয়ার আগে মোনাকো, জুভেন্তাস ও মার্শেইয়ের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
